৭ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:ফাইল ছবি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি কঠিন আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেও নৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে কখনো সরে আসেননি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও লেখক ক্রেইগ মারে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরোধিতা খামেনিকে বিশ্ব রাজনীতিতে নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের একটি স্বতন্ত্র উদাহরণে পরিণত করেছে। প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারে বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি তার অটল প্রতিশ্রুতি। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হুমকি এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও তিনি নিজের নীতিগত অবস্থান থেকে বিচ্যুত হননি। মারের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হলেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটেনি। তার দাবি, খামেনির বিশ্বাস ছিল যে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবস্থানকে তিনি খামেনির ব্যক্তিগত সততা ও নীতির প্রতি দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। সাবেক এই ব্রিটিশ কূটনীতিক আরও বলেন, সামরিক সংঘাতের সময় ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল, হাসপাতাল কিংবা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করেনি। তার মতে, এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে এবং এর পেছনে খামেনির নৈতিক শিক্ষার প্রভাব রয়েছে। ক্রেইগ মারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব ও ইসরাইলের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ইরান বহু মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি এবং ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতায় ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননের মিত্রদের ভূমিকাও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন। খামেনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার সময় ইরানি জনগণের মধ্যে যে ঐক্য ও সংহতি দেখা গেছে, তা তার নেতৃত্বের প্রভাবের বড় প্রমাণ। একই সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বে ইরানকে ঘিরে প্রচলিত ধারণার সমালোচনা করে মারে বলেন, ইরান একটি সাংস্কৃতিক ও জাতিগতভাবে বৈচিত্র্যময় রাষ্ট্র, যেখানে ইহুদি ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুরাও বসবাস করেন এবং তাদের উপস্থিতির বাস্তবতা পশ্চিমা গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। খামেনির রাজনৈতিক দর্শন তার মৃত্যুর পর দুর্বল হয়ে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মারে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে যে কোনো আদর্শ বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামরিক শক্তি দিয়ে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তার মতে, গাজা, দক্ষিণ লেবানন ও ইরানের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে বিশ্বাস মানুষের প্রতিরোধের শক্তিকে টিকিয়ে রাখে। তিনি আরও বলেন, একজন বিশিষ্ট নেতার মৃত্যু অবশ্যই বেদনাদায়ক, তবে তার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় জীবদ্দশার আদর্শ, কর্ম ও রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের মাধ্যমে। সূত্র: প্রেস টিভি

image : ফাইল ছবি | credit : ইন্টারনেট
মন্তব্য:০