১৮ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা অব্যাহত, একদিনে ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। এর মধ্যে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে এক জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষের ওপর ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও ইসরাইল নিয়মিত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় হামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিহত এক ব্যক্তির জানাজার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় শোকাহত মানুষের ওপর এই হামলা চালানো হয়। আহমেদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য গাজায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের খবরের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলা বন্ধ হয়নি। তাদের অভিযোগ, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখছে। এদিকে গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হন। আজ-জাওয়ায়দা এলাকায় হামলায় আরও একজন নিহত হন। নুসেইরাতের পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে গোলার আঘাতেও একজন নিহত হন। গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খান ইউনিস এলাকায় আহত এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা কমেনি; বরং মে মাস থেকে হামলার মাত্রা বেড়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে ইসরাইল ৪০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। গাজার ধ্বংসস্তূপ, অব্যাহত হামলা এবং ড্রোনের শব্দে উপত্যকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
মন্তব্য:০