শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৩ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বীর মুক্তিযোদ্ধা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

যাচাই-বাছাই করে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের একটি নির্ভুল ও প্রামাণ্য তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আবেগ, অনুমান বা বিচ্ছিন্ন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও সামরিক নথি, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের কৌশল, তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য দ্রুত সংরক্ষণ করা জরুরি। এ জন্য গ্রাম থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসন, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় আরও বলা হয়, রণাঙ্গনের সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং নির্যাতিত নারীদের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করে সংরক্ষণ করতে হবে। তালিকাভুক্ত প্রতিটি নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল, নথি ও তথ্যের উৎস সংরক্ষণেরও সুপারিশ করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি তৈরি হয়। সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অনিয়ম এবং অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রশাসনিক কাঠামো পুরোপুরি স্বাভাবিক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই অনুমাননির্ভরভাবে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ধৃত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক দশকে অসংখ্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রস্তুতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করা গেলে ইতিহাসবিদদের জন্য একটি প্রামাণ্য তথ্যভিত্তিক ভিত্তি তৈরি হবে। অন্যথায় ইতিহাসের কাছে আমাদেরই জবাবদিহি করতে হবে।” সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অস্পষ্টতার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি নিরপেক্ষতা, সতর্কতা ও সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, উপাচার্য মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, প্রধান সম্পাদক আবদুল হাই সিদ্দিকসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সূত্র: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।





মন্তব্য