২২ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:রোহিঙ্গা ক্যাম্পে,কক্সবাজার ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ক্যাম্পগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কক্সবাজার সফরে আসছে মার্কিন কংগ্রেসের কর্মকর্তা পর্যায়ের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। আগামী ২৬ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অবস্থান করে কার্যক্রম পরিদর্শন করবে দলটি। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফরের ধারাবাহিকতায় এই প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সফরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত কার্যক্রমগুলো সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হবে। মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তায় সবচেয়ে বড় অর্থদাতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম এবং তাদের অর্থায়নের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। মার্কিন সরকার তাদের করদাতাদের দেওয়া অর্থ সঠিকভাবে এবং যথাযথ খাতে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। সে কারণেই অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প ও কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র দেখতে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। তার ভাষায়, এই সফরকে অনেকটা নিরীক্ষামূলক পরিদর্শন হিসেবে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, প্রতিনিধিদল সেসব এলাকায় গিয়ে কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনিয়র লেজিসলেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট নোয়েল ডেইনা। প্রতিনিধিদলে ইউএনএইচসিআরের দুজন কর্মকর্তাও থাকছেন। ১০ সদস্যের এই দলটি তিন দিনের সফরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মোট আটটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখবে। কর্মকর্তাদের দেওয়া সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ আগস্ট উখিয়ার ছয়টি ক্যাম্প পরিদর্শন করবে প্রতিনিধিদলটি। সফরের শেষ দিন ২৮ আগস্ট টেকনাফের দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবে তারা। রোহিঙ্গা সংকটের পটভূমিতে এই সফরের গুরুত্বও রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের মুখে রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় আশ্রয় নেয়। তখন ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ক্যাম্পে আগে থেকেই আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছিলেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন দফায় আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নও ক্যাম্পগুলোর বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের এবারের সফরে তাই শুধু ক্যাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তারও একটি সরেজমিন মূল্যায়ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্র: বাসস।
মন্তব্য:০