শিরোনাম
কঠিন পরীক্ষা উতরে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, এবার ইংল্যান্ডকে সামনে দেখছেন মেসি *** নাইজেরিয়ায় সেনা অভিযানে ৩০০-এর বেশি সশস্ত্র ডাকাত নিহত *** জাহাজে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া ছাড় দেবে না যুক্তরাষ্ট্র *** তথাকথিত ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায়’ মানে না চীন: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় *** কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে চীন-উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৮ জুন, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বক্তব্য রাখছেন মাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

টেকসই অঙ্গদান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর

দেশে একটি কার্যকর, টেকসই ও মানবিক অঙ্গদান এবং কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অঙ্গদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৃতদেহ থেকে অঙ্গদানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে হাজারো কিডনি বিকল রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স অন লাইভ অ্যান্ড ডিসিজড ডোনার কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, অঙ্গদান মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন মানুষের মৃত্যুর পরও তার অঙ্গ অন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জানান, মৃত্যুর পর একজন ব্যক্তির কিডনি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত প্রতিস্থাপনের উপযোগী থাকে। এ কারণে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট কো-অর্ডিনেটর তৈরি অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা অপরিহার্য। কিডনি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কিডনি রোগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় দুই কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ চূড়ান্ত পর্যায়ের কিডনি বিকলতায় (ইএসআরডি) আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রতিস্থাপনের সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ রোগী সময়মতো সেবা পান না। এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব অধ্যাপক কিউরি আন এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান বলেন, বাংলাদেশে বছরে মাত্র কয়েকশ কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির অঙ্গ থেকে প্রতিস্থাপনের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং জনসচেতনতার অভাবে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগী জীবনরক্ষাকারী এই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্মেলনে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার এমেরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন, ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক হি ইয়ং শিন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন, নীতিগত সহায়তা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কিডনি প্রতিস্থাপনের আইনি, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে ভবিষ্যতে এ খাতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।





মন্তব্য