৩১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
ভূমিকম্পসহ বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজধানী টোকিও অচল হয়ে পড়লে যাতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম থেমে না যায়, সে লক্ষ্যে বিকল্প রাজধানী গঠনের আইনি কাঠামো অনুমোদন করেছে জাপানের পার্লামেন্ট। তবে আইনটি ঘিরে ক্ষমতাসীন জোট এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্টে সম্প্রতি পাস হওয়া এই আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বা একাধিক অঞ্চলকে বিকল্প প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করা যাবে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, প্রশাসনিক অবকাঠামো এবং জরুরি সেবা স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, আগামী তিন দশকের মধ্যে টোকিও অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রায় ৭০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই জরুরি অবস্থায় বিকল্প কেন্দ্র থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তোলাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। এ পরিকল্পনার আরেকটি লক্ষ্য হলো টোকিওর বাইরে নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা। বর্তমানে জাপানের অর্থনীতির বড় অংশ, অধিকাংশ তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বিপুল জনসংখ্যা টোকিওকেন্দ্রিক হওয়ায় বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও সরকার তুলে ধরেছে। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ওসাকাভিত্তিক জাপান ইনোভেশন পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট করতেই এই বিল পাস করা হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিকল্প রাজধানী বাস্তবায়নের নামে বিপুল সরকারি বিনিয়োগ ও কর-সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, আইনে কোথাও ওসাকা বা অন্য কোনো শহরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বরং নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই যে কোনো অঞ্চল আবেদন করতে পারবে। সম্ভাব্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে ফুকুওকা, হোক্কাইদো, মিয়াগি ও আইচি ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চকক্ষে অল্প ব্যবধানে বিলটি পাস হওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। কারণ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
মন্তব্য:০