২৯ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই ইউরোপে আঘাত হানা তীব্র তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস জানিয়েছেন, চলমান দাবদাহের কারণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩০০টির বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়েছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সোমবার দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহের প্রভাব ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাপমাত্রাজনিত চাপকে ‘নীরব ঘাতক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাদেশটির অধিকাংশ ভবন ও অবকাঠামো এত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার উপযোগী নয়। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার থেকে দেশটিতে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। একই সঙ্গে বাড়িতে মৃত্যুর হারও প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডব্লিউএইচওর প্রধান বলেন, ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে লাখো মানুষ চরম গরমে দুর্ভোগে পড়েছে। অনেক এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে রয়েছে। রোববার জার্মানির পূর্বাঞ্চলে ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। একই দিনে চেক প্রজাতন্ত্রের ডোকসানি এলাকায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পশ্চিমাঞ্চলে ভারী ঝড় বয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে পোল্যান্ডের সলুবিস শহরে ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির ইনস্টিটিউট অব মেটিওরোলজি অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট। তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবেই এ ধরনের চরম আবহাওয়া ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। আগে যা কয়েক দশকে একবার ঘটত, এখন তা প্রায় প্রতিবছরই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। সূত্র: এএফপি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মন্তব্য:০