শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


১৫ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ঘিরে তৎপর নয়াদিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও আগস্টের শেষ সপ্তাহকে সামনে রেখে ভারতীয় পক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে। দুই দেশের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সম্ভাব্য এ সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদীর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় ফিরে আসা। ওই বৈঠকের পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সফরের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও ভারতের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকসের একটি বিশেষ অধিবেশনেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জায়সওয়ালও জানিয়েছেন, সফর নিয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা যথাসময়ে জানানো হবে। নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ভারত শুধু আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং সম্ভাব্য সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জমে থাকা জটিলতা কমিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছে মোদি সরকার। সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক কিছু বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়। এসব ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লি ইতিবাচক অবস্থান দেখাচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। ভারতের এক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি কোনো একটি সুবিধা বা সহযোগিতা চায়, ভারত প্রয়োজনে তার চেয়েও বেশি দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সমঝোতাকেই ভিত্তি হিসেবে দেখতে চায় নয়াদিল্লি। এদিকে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ভারত এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়াকে সামনে রাখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জ্বালানি সহযোগিতাও সম্ভাব্য সফরের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। বাংলাদেশ ভারতের কাছে পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ করেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি দেওয়ার বিষয়টিও ভারতের পক্ষ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদার পাশাপাশি ভারতের পরিশোধন সক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়েও নয়াদিল্লির আগ্রহ রয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেট যোগাযোগেও পড়েছে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভারতীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, দুই দেশের ক্রিকেটীয় যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সফর নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সফল হলে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও জনসম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন গতি তৈরি হতে পারে। ভারত চাইছে, মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত থাকুক। সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে নয়াদিল্লির তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে রাখতে চায় না ভারত। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কয়েকটি জটিল বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে মোদি সরকার। সূত্র: প্রদত্ত সংবাদ প্রতিবেদন; ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের ভিত্তিতে।





মন্তব্য