শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


৫ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বুধবার (৫ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন-২০২৬| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

স্টিম শিক্ষায় বিনিয়োগেই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়বে বাংলাদেশ: ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তি নির্ভর করবে প্রযুক্তি আমদানির ওপর নয়, বরং নিজস্ব উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক স্তর থেকেই স্টিম (STEAM) শিক্ষা জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ জ্ঞানভিত্তিক ও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। বুধবার (৫ আগস্ট) জাপানের ওসাকায় আয়োজিত আরটেক জেনারেল এক্সিবিশন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তি কেনার মাধ্যমে কোনো দেশ সাময়িক সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়। অন্যদিকে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিতভিত্তিক শিক্ষা মানুষের মধ্যে এমন সক্ষমতা তৈরি করে, যার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, অভিযোজন এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। এ ধরনের সক্ষমতাই একটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তি। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের তথ্য মুখস্থ করানো হবে না; বরং প্রশ্ন করা, বিশ্লেষণ করা, সমালোচনামূলক চিন্তা করা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাত কোটির বেশি শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি এখনও তৈরি পোশাকশিল্পকেন্দ্রিক। এই নির্ভরতা কমিয়ে বহুমাত্রিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টিম শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। জাপানের উন্নয়ন ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মেইজি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্নির্মাণ—প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ জাপানকে বিশ্বে অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী। তিনি জানান, সরকার বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান উন্নয়নের পাশাপাশি ধাপে ধাপে গণিত ল্যাব, বিজ্ঞান ক্লাব এবং প্রাথমিক রোবোটিক্স শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্টিম শিক্ষা কার্যকরভাবে পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। ববি হাজ্জাজ বলেন, স্টিম শিক্ষা বাস্তবায়নে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সবসময় প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় পরিবেশ ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েও শিশুদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শেখানো সম্ভব। একটি গাছ লাগানো, পানির গুণগত মান পরীক্ষা, বৃষ্টিপাত পরিমাপ কিংবা কাগজ দিয়ে সেতু নির্মাণের মতো কার্যক্রমও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, দ্রুত নগরায়ণ, নদীভাঙন, অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময় অপরিহার্য। এ ধরনের সহযোগিতাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও উদ্ভাবনী করে তুলবে। অনুষ্ঠানে ওসাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিনিধি, শিক্ষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অতিথি এবং আরটেক ও অক্টোব্রেইনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।





মন্তব্য