শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৫ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ।| |ক্রেডিট : সংগৃহীত

সংবিধান থেকে সাইবার নিরাপত্তা—বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগে সহায়তা দিতে প্রস্তুত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি

ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। আইনি ও বিচারিক সংস্কার এবং সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে পুলিশি সক্ষমতা, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সহায়তা এবং ডিজিটাল অপতথ্য মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংস্থাটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এর বাংলাদেশে নিযুক্ত আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। দুই পক্ষ বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে অভিনন্দনও জানান তিনি। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হলে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউএনডিপির দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার উদ্যোগে সংস্থাটির সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। ইউএনডিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবেশ রক্ষা, পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ক্যাম্পে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে সংস্থাটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোকে প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত ও আধুনিক করা দরকার। তবে দীর্ঘমেয়াদি বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ক্যাম্প এলাকায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার। বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ইউএনডিপির সহায়তার বিষয়টি উঠে আসে। সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, নাগরিক অধিকার, সংঘাত মোকাবিলা এবং বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ইউএনডিপির প্রতিনিধি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে কোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। ইউএনডিপি চাইলে আইনটির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবিত আইন নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এটি পাস হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি বলেন, আইনটি প্রণয়নের সময় ইউএনডিপিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, আইনজীবী এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সামাজিক বাস্তবতা ও ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন মন্ত্রী। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অনেক সময় দেশের বাস্তব পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন দেখা যায় না। বাংলাদেশকে একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানান তিনি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।





মন্তব্য