১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:মঙ্গলবার সিলেটে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’-এর উদ্বোধন| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
সিলেট, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দুর্গম সীমান্ত ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসংবলিত ড্রোন ব্যবহার করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মাধ্যমে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তের ওপারে তৎপরতা পর্যবেক্ষণ, চোরাচালান ও মাদকপাচারের রুট শনাক্ত এবং অবৈধ অস্ত্রের চলাচল প্রতিরোধ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সিলেটে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমান্তের বেশ কিছু দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা রয়েছে, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে জনবল দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা অত্যন্ত কঠিন। এসব এলাকায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে রাতের বেলায়ও সীমান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল বা অন্যান্য তৎপরতা শনাক্ত করা যাবে। ফলে চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ড্রোনের ব্যবহার শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান মন্ত্রী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটেও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছে। SSSDW-তে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি এবং ড্রোন ওয়ারফেয়ার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেসামরিক জনবলের জন্যও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় আরও দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ল্যাবরেটরি, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্র যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। আইনি কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে ‘মব’ তৈরির যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই এ ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন। উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে SSSDW-এর বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পরে তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। এ সময় বিজিবির পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া এবং ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। বিশেষায়িত এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আকাশভিত্তিক নজরদারি আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারে বিজিবির সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি
মন্তব্য:০