শিরোনাম
মাস্কের সমালোচনায় নতুন বিতর্ক :পাশে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন *** আলতাই–উরুমছি–চিলিন: তুষার ছুটিতে পর্যটনে উচ্ছাস *** সি চিন পিংয়ের উন্নয়ন চিন্তা গ্লোবাল সাউথকে নতুন দিশা দেবে: অতিথিদের অভিমত *** চীনে ঐতিহাসিক জলসেচ প্রকল্প পরিদর্শনে সি-ম্যাকখোঁর কূটনৈতিক আলোচনা *** চীনা সংস্কৃতির প্রশংসা করলেন ফার্স্ট লেডি ব্রিজিট ম্যাকখোঁর ***




↠মিজানুর রহমান সুমন


৫ জুন, ২০২৩

কমিউনিটি › দেশি মেলা,বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:নাটনন্দনের পালাগান| |ক্রেডিট : Sydney Bangla News

সিডনিতে নাটনন্দনের পালাগান ও নাটক মঞ্চস্থ

ঢাকা থেকে আসা নাটকের দল নাটনন্দনের পালাগান- বিষ পবণের গীত মন কেড়ে নিয়েছে সিডনিবাসীর। গত শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির হার্সটভিল সিভিক থিয়েটারে পালাকার আসমা আখতার লিজার রচনা ও পরিচালনায় পালাগানটি মঞ্চস্থ করা হয় । অভিনয়ে এবং পালাগানে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আসমা আখতার লিজা, সুরভী রায়, মনিকা দেওয়ান, সায়েম মোর্শেদসহ সকল শিল্পী ও কলাকুশলীরা। অনুষ্ঠান শেষে সিডনির নাট্যজন, সুধীজন এবং দর্শক তাদের প্রতিক্রিয়ায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। পালাগান প্রধানত পৌরাণিক ও লৌকিক আখ্যানভাগ নিয়ে রচিত। কৃষ্ণ ও গৌরাঙ্গ লীলা অবলম্বনে রচিত পালাসমূহকে পালাকীর্তনও বলা হয়। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পৌরাণিক পালাকীর্তন হচ্ছে: মান, মাথুর, নৌকাবিলাস, কালীয়দমন, নিমাইসন্ন্যাস প্রভৃতি। চন্দ্রাবতী, মহুয়া, মলুয়া, কমলা, দেওয়ান মদিনা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, দস্যু কেনারামের পালা, ভেলুয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য লৌকিক আখ্যানমূলক পালাগান। পালাগানে প্রস্তাবনা ও গৌরচন্দ্রিকা থাকে। এতে গদ্যের অংশ থাকে কম এবং তত্ত্বব্যাখ্যা, শ্লোক ও দীর্ঘ গানের সংখ্যা থাকে বেশি। পালাগানের কবিকে বলা হয় পদকর্তা বা অধিকারী। পালাগানে একজন মূল গায়েন বা বয়াতি থাকেন। তিনি দোহারদের সহযোগে গান পরিবেশন করেন। এ গান কাহিনীমূলক হওয়ায় তা কথোপকথন আকারে পরিবেশিত হয়। এ ক্ষেত্রে মূল গায়েনই বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেন। কখনও কখনও দোহাররা তাকে এ কাজে সাহায্য করে। নাটকের আদর্শে সাজসজ্জাসহ এই চরিত্রগুলি মঞ্চে উপস্থাপিত হলে তখন তাকে বলা হয় যাত্রা। এরূপ যাত্রাপালার প্রচলন প্রাচীন কাল থেকেই ছিল, যেমন তরণীসেনবধ পালা, জয়দ্রথবধ পালা, রামযাত্রা, কৃষ্ণযাত্রা প্রভৃতি। এ ধরনের পালা সাধারণত রামায়ণ-মহাভারত থেকে নেয়া হতো এবং এগুলি সমধিক জনপ্রিয় ছিল। এছাড়া চৈতন্যযাত্রা, বিদ্যাসুন্দরযাত্রা, চন্ডীযাত্রা, ভাসানযাত্রা এগুলিও অতীতের ন্যায় বর্তমানেও জনপ্রিয়। পালাগানে অভিনয় এবং গান নিয়ে লিজার সঙ্গে ছিলেন জাত অভিনেত্রী সুরভী রায়। তাঁর হাসি, বাচনভঙ্গি, কোরিওগ্রাফ সকলকে মুগ্ধ করেছে। দোতরায় মনিকা দেওয়ান এবং বাদ্যযন্ত্র ও অভিনয়ে অনবদ্য ছিলো সায়েম মুরশেদের পরিবেশনা। লিজা গীত পরিবেশনা ও সংলাপে সিডনিকেও যুক্ত করেন অনেক মুন্সিয়ানার সাথে। দর্শকেরা এসময় খুব আনন্দের সাথে সেটি গ্রহণ করেন। অস্ট্রেলিয়ায় নাটক ও পালাগান নিয়ে এসেছেন নাটনন্দনের শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্দেশক। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় একই মঞ্চে পরিবেশিত হয়েছে নাটনন্দনের নাটক- নারী ও রাক্ষসী। এটির নাট্যকার ও নির্দেশনায় ছিলেন আসমা আখতার লিজা। তিনি জানান, এই নাটক সমাজের নির্যাতিত নারীদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে নির্মিত। এই নাটকে যে ছয়টি নারী চরিত্র দেখানো হয়েছে তাদের প্রত্যেকের সাথেই আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের জীবন দেখেই আমি এই নাটক নির্মাণে অনুপ্রাণিত হয়েছি। নাটকে বিভিন্ন দৃশ্যপটে ১২টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আসমা আক্তার লিজা, সুরভী রায় ও সায়েম মুরশেদ।মিউজিক করেছেন মনিকা দেওয়ান ও সায়েম মুরশেদ। সেট ডিজাইন ও আলোক নির্দেশনা দিয়েছেন ফয়েজ জহির।





মন্তব্য