২৯ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন কিংবা নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন কিংবা নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সরকার সর্বাত্মকভাবে থাকার চেষ্টা করবে। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তারেক রহমান বলেন, যেসব পরিবারের স্বজনদের তারা হারিয়েছেন, তাদের সেই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ করার মতো নয়। তবুও সরকার তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আজকের আয়োজন আনন্দের পাশাপাশি গভীর বেদনারও। কারণ এমন অনেক মানুষকে স্মরণ করা হচ্ছে, যাদের আজ তাদের পরিবার, স্বজন ও দেশের মানুষের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারা নেই। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নিখোঁজ ও অনুপস্থিত এসব মানুষের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একমাত্র আল্লাহই অবগত। তাই তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অনেকে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব আত্মত্যাগের পেছনে দেশ ও জনগণকে ঘিরে যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সব প্রত্যাশা একসঙ্গে এবং দ্রুত পূরণ করা সম্ভব না হলেও সরকার তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করে যাবে। যারা দেশের মানুষের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বড় কোনো অর্জনের জন্য যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেন, তাদের অনেকেই সেই অর্জন দেখার সুযোগ পান না। যারা এখনও বেঁচে আছেন, তারাও দেশের জন্য নানা ধরনের ক্ষতি ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ত্যাগকে সরকারের শক্তির উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে—বিষয়টি শুধু এভাবে দেখলে হবে না। বরং তাদের ত্যাগ, সহযোগিতা ও সমর্থনের কারণেই সরকার আরও সাহস ও উদ্যম নিয়ে কাজ করার প্রেরণা পাচ্ছে। তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের কাজে সহযোগিতা এবং উৎসাহ দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ ও সব গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী মানুষের দেশ ও জাতিকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে সরকারের সঙ্গে তাদের সমর্থনও প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
মন্তব্য:০