শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৬ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতেই, চলছে ঢাকা-নয়াদিল্লি আলোচনা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে না; শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে। তবে এ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে। ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক কিংবা কূটনৈতিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারিক প্রক্রিয়াতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। ওই অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় আইনগত নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বাংলাদেশের অনুরোধ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। নয়াদিল্লির একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা দাবি করেছেন। এদিকে শেখ হাসিনা নিজেও চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ওই মাসেই দেশে ফেরার কথা বলেন। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত চাওয়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে এই রায়কে সামনে রাখা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছিল—এই বিষয়টিও ভারতের আদালতে আইনগতভাবে উত্থাপন করা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে চুক্তিতে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধকে সাধারণভাবে প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধানও রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিস্তারিত আইনি কাঠামো রয়েছে। কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে একজন অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। ওই ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ারও বিধান রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন একদিকে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে থাকলেও এর চূড়ান্ত পরিণতি ভারতের বিদ্যমান আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও সাজা এবং দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।





মন্তব্য