শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত

সবুজ অর্থনীতিই টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশের ভিত্তি: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমন্বিত করে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। তিনি বলেছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজ যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করবে। বুধবার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কম কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। আর এ ধরনের অর্থনীতিই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরার মতো দুর্যোগের প্রকোপ এবং তীব্রতাও বাড়ছে। নিম্নাঞ্চল ও উপকূলনির্ভর বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি ৩.০-ও প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে। মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তাই দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের শৈশব থেকেই প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলতে হবে। পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, শব্দদূষণ প্রতিরোধ, বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধ এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তাদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বর্তমানে অত্যন্ত স্পষ্ট। সাম্প্রতিক নেপালের ভয়াবহ বন্যার ঘটনাকে এর বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে এমন বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। আগে যেখানে হাওর বা নিচু অঞ্চল বন্যার প্রধান ঝুঁকিতে থাকত, এখন পাহাড়ি এলাকাতেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাঁদের অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়





মন্তব্য