শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


১ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলন| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতেই সরকারের অঙ্গীকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন কিংবা সাম্প্রদায়িক উসকানির কোনো স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। ধর্মকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সমাজে বিভেদ বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির সহাবস্থানের ইতিহাস। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, “আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশেরই সন্তান, এ দেশেরই নাগরিক।” তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে নাগরিক পরিচয়ই হবে সবচেয়ে বড় পরিচয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান বাংলাদেশে নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং সম্প্রীতির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে। সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সমস্যা ও দাবিগুলো সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হলে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। সরকার সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চায়। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগের ইতিহাসও স্মরণ রাখতে হবে। ধর্মের নামে বিভাজন নয়, বরং সমঅধিকার, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ।





মন্তব্য