৩১ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:সাগর-রুনি| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
৩০ আগস্ট ২০২৬: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন একটি সূত্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর দাবি, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। রোববার নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য জানান। মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি বর্তমানে তাদের নিজস্ব তদন্ত সংস্থার অধীনে নেই। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে। তবে অন্য একটি মামলার তদন্ত পরিচালনা করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা কখনো কখনো অন্য ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেতে পারেন। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও এমন একটি সূত্র পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কোনো কোনো সময় ক্লু পেয়ে যাই।’ এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মেজর মোজাফফরের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কিছুটা ক্লু পাওয়ার উদাহরণ দেন তিনি। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একটি ক্লু পাওয়া গেলেও তা এখনই প্রকাশ করার মতো পর্যায়ে নেই। কারণ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কে, তা প্রকাশ করলে চলমান যাচাই-বাছাই ও তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর ভাষ্য, ‘একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের একটি কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে।’ বিষয়টি আরও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ওই ব্যক্তির ওপর নজরদারিও রয়েছে বলে জানান তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত আরও এগিয়ে যাওয়ার পর যদি কোনো ‘অথেনটিক’ বা নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার কথাও জানান তিনি। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি পৃথক হত্যা মামলা। ফলে এর বিচার সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা কাটেনি। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সর্বশেষ এই সময় বৃদ্ধির ফলে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ মোট ১২৯ বার পেছাল। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন রুনি হত্যার শিকার হন। দীর্ঘদিন মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কাছে। পরবর্তী সময়ে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের হাতে যায়। বর্তমানে সংস্থাটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলাটির বিচার কার্যক্রমও শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, পাওয়া ক্লুটি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে আরও তদন্তের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের বক্তব্য ও আদালত সূত্র
মন্তব্য:০