২৩ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:রেকর্ড ভাঙতে পারে এবারের এল নিনো, বাড়ছে বৈশ্বিক দুর্যোগের শঙ্কা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জলবায়ুগত ঘটনা ‘এল নিনো’ আবারও সক্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) সম্প্রতি নতুন এল নিনোর সূচনার ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এবারের এল নিনো অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, দাবানল ও খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনো শক্তিশালী আকার ধারণ করলে এটি গত ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশে চরম আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে। ঐতিহাসিকভাবে ‘এল নিনো’ নামটির উৎপত্তি পেরুর জেলেদের কাছ থেকে। তারা লক্ষ্য করেছিলেন, বড়দিনের সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে মাছের পরিমাণ কমে যায়। সেই থেকেই ঘটনাটির নাম দেওয়া হয় ‘এল নিনো’, যার অর্থ ‘শিশু যিশু’। বিজ্ঞানীরা জানান, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এল নিনোর সৃষ্টি হয়। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেটিকে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষভাগ ও ২০২৭ সালের শুরুতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে ১৯৮২-৮৩ সালের এল নিনো ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন তাপমাত্রা বেড়েছিল ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি সেই রেকর্ডও অতিক্রম করতে পারে। তাদের মতে, এল নিনো সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল না হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৯৭-৯৮ ও ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর পর বিশ্বে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডধারী এবং জলবায়ু মডেল বলছে, ২০২৭ সাল আরও বেশি উষ্ণ হতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের জনগণ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সোমালিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী খরার পর অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও খরার আশঙ্কা রয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, চাদ, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও হাইতির মতো দেশগুলো মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতি, খরাসহিষ্ণু বীজ ব্যবহার এবং খাদ্য ও পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে। সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট
মন্তব্য:০