৭ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:রাশিয়ার স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারের স্থান থেকে আকাশে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।| |ক্রেডিট : ছবি: টেলিগ্রাম
দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বুধবার রাতের অভিযানে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধফ্রন্ট থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরে বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রের আরেকটি তেল শোধনাগারেও হামলার কথা জানিয়েছেন তিনি। দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ইয়ারোস্লাভলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা গেছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত এই স্থাপনাটির অবস্থান স্বাধীন রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল আস্ত্রা ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, “আজ আমাদের দীর্ঘপাল্লার ‘নিষেধাজ্ঞা’ আবারও কার্যকর হয়েছে। এর লক্ষ্য রাশিয়ার তেল থেকে অর্জিত সেই আয় সীমিত করা, যা তারা যুদ্ধ পরিচালনা এবং ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করছে।” এর আগে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে মস্কোগামী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তবে তিনি তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলার পর শহরের কয়েকটি আবাসিক ভবনেও আগুন লাগে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট। ইয়ারোস্লাভলের এই তেল শোধনাগারটি মধ্য রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং দেশটির পাঁচটি বৃহত্তম তেল শোধনাগারের একটি। বছরে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এ স্থাপনাটির। এখানে পেট্রোল, ডিজেল, জেট জ্বালানি, তরলীকৃত গ্যাস এবং ফুয়েল অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। জেলেনস্কি জানান, এর আগের রাতেও একই শোধনাগারে সফল হামলা চালানো হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের মে মাসেও স্থাপনাটি অন্তত চারবার ইউক্রেনীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। ইউক্রেনের দাবি, তথাকথিত ‘দীর্ঘপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ অভিযানের আওতায় রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার উৎপাদন কমাতে বা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে কিয়েভ দাবি করেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট।
মন্তব্য:০