শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


২৭ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে সংঘটিত হতে যাচ্ছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় পৃথিবীর গাঢ় ছায়া চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকবে চাঁদ, দেখা দেবে তামাটে-লাল ‘ব্লাড মুন’

রাতের আকাশে আজ দেখা যেতে পারে এক বিরল মহাজাগতিক আয়োজন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে সংঘটিত হতে যাচ্ছে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। এ সময় পৃথিবীর গাঢ় ছায়া চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশ ঢেকে ফেলবে। সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছানোর কারণে গ্রহণের সময় চাঁদ তামাটে-লাল বর্ণ ধারণ করবে, যা ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত। নাসা জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা ১২ মিনিটে এ চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। কিন্তু ওই সময় বাংলাদেশসহ এশিয়ার বেশির ভাগ এলাকায় চাঁদ দৃশ্যমান না থাকায় সেখানকার মানুষ গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় সরাসরি দেখতে পারবেন না। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন স্থান থেকে এ দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলের আকাশেও গ্রহণের আংশিক দৃশ্য ধরা পড়তে পারে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে চাঁদ ওঠা বা অস্ত যাওয়ার সময় কিছু এলাকায় গ্রহণের পর্যায় দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দ্রগ্রহণের পেছনে রয়েছে পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের বিশেষ অবস্থান। গ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে। ফলে সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের কিছু আলোকে বাঁকিয়ে চাঁদের দিকে পাঠায়। বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসা আলো চাঁদের ওপর পড়ার ফলে সেটি অন্ধকারে হারিয়ে না গিয়ে লালচে-তামাটে আভা পায়। এই কারণেই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে অনেকটা রক্তিম বা তামাটে রঙের দেখায় এবং এ দৃশ্যকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’। গ্রহণের সামগ্রিক প্রক্রিয়া পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলবে। তবে চাঁদের পূর্ণ গ্রহণ ও সবচেয়ে গাঢ় লালচে রূপের সময়কাল পুরো ঘটনাপ্রবাহের তুলনায় কম। আকাশ পরিষ্কার থাকলে চন্দ্রগ্রহণ পর্যবেক্ষণের জন্য সাধারণত কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। সূর্যগ্রহণের বিপরীতে চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা নিরাপদ। ফলে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে ঘটনাটি দৃশ্যমান হবে, সেখানে আকাশপ্রেমীরা সরাসরি চাঁদের পরিবর্তিত রূপ উপভোগ করতে পারবেন। এর আগে একই ধারাবাহিকতায় একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়েছে। স্পেন, পর্তুগালের একটি ছোট অংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই গ্রহণ দেখা গিয়েছিল। মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা এখানেই শেষ নয়। নাসার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি আরও একটি সূর্যগ্রহণ ঘটবে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চল থেকে সেটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এরপর ২০ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির রাতে আরেকটি চন্দ্রগ্রহণের পূর্বাভাস রয়েছে। ওই গ্রহণটি বিশ্বের তুলনামূলক বিস্তৃত অঞ্চলে দৃশ্যমান হবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সেটি দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পরপর কয়েকটি গ্রহণের এই মহাজাগতিক আয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ ও আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। আজকের পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় দেখা সম্ভব না হলেও বিশ্বের অন্য প্রান্তের আকাশে পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা তামাটে-লাল চাঁদ এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করবে। সূত্র: নাসা।





মন্তব্য