১৩ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘Sustaining Play, Learning and Skills in Humanitarian Contexts (SPLASH)’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
দেশে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) শিক্ষার প্রসারে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিশুদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে খেলার মাধ্যমে শেখার পরিবেশ (Play-based Learning) নিশ্চিত করে তাদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘Sustaining Play, Learning and Skills in Humanitarian Contexts (SPLASH)’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনায় শিক্ষাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অঙ্কভীতি নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পরিচয়। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করে। একটি জ্ঞাননির্ভর ও প্রযুক্তিভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য এ হার যথেষ্ট নয়। তাই শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তর থেকেই STEM বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী হয়। ববি হাজ্জাজ বলেন, ব্র্যাক, লেগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর বাস্তবায়িত প্লে-বেইজড শিক্ষা কার্যক্রম সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এসব উদ্যোগের সফলতা মূল্যায়নের পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্লে-ল্যাব ও STEM ল্যাব চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি বিদ্যালয় নয়, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম শিক্ষার মান নির্ধারণে সরকার কাজ করছে। শিক্ষকতা, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো এবং শিক্ষার গুণগত মান—সব ক্ষেত্রেই জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখার অর্জন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষা সংস্কার, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, প্লে-বেইজড লার্নিং এবং STEM-ভিত্তিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
মন্তব্য:০