শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


৩১ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ফারাক্কা ব্যারেজ| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে নতুন শর্ত চায় পশ্চিমবঙ্গ, গুরুত্ব পাচ্ছে পানি ও বন্দর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি নবায়নের আগে পশ্চিমবঙ্গের পানি, শিল্প ও বন্দর খাতের প্রয়োজনীয়তা যেন কোনোভাবেই উপেক্ষিত না হয়, সে বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা রাজ্যের উদ্বেগ ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এ সময় গঙ্গার পানি ব্যবহারের বিভিন্ন খাত নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো শুষ্ক মৌসুমে ভাগীরথী-হুগলি নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা। রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিটিআইকে জানান, ভবিষ্যৎ চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের ন্যায্য পানির চাহিদা যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হলে রাজ্যের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফারাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানির প্রবাহ বজায় রাখাকে তাই রাজ্য সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হুগলি নদীর নাব্যতা সংকট। পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীপথে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজের উজান ও ভাটির মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিবছর নদীভাঙনের ঘটনা ঘটছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বক্তব্য, পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত পলি জমার সম্মিলিত প্রভাব নদী ব্যবস্থার পাশাপাশি নৌপরিবহন ও বন্দর কার্যক্রমেও পড়ছে। তাই নতুন পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের আলোচনায় এসব বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত পলি জমার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বারবার বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর প্রভাব কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের ওপরও পড়ছে। পলি জমার কারণে বন্দরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুধু নদী ও নৌপরিবহন নয়, পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্সেনিক দূষণ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। এক কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে গঙ্গার ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। নদীর পানি শোধন করে পানীয় হিসেবে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেচের কাজে এবং নির্দিষ্ট কিছু শিল্পকারখানার প্রয়োজনেও গঙ্গার পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পানির চাহিদা বিবেচনার পাশাপাশি নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন মোকাবিলা এবং ভাটির অঞ্চলে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে কেবল দুই দেশের মধ্যে পানির হিসাব-নিকাশ নয়, নদীর নাব্যতা, পলি ব্যবস্থাপনা, বন্দর কার্যক্রম, সেচ, শিল্প ও পরিবেশের মতো বিষয়গুলোকেও সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তি নবায়নের আলোচনা এখন দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সূত্র: পিটিআই





মন্তব্য