২০ জুলাই, ২০২৬
খেলা › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:স্পেনের বিশ্বজয়| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
বিশ্বকাপের শুরুটা ছিল হতাশার, কিন্তু শেষটা ইতিহাস গড়ে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করা স্পেন ধাপে ধাপে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরে শেষ পর্যন্ত নিউজার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের এই সাফল্যের ভিত্তি ছিল পরিকল্পিত ফুটবল, বলের নিয়ন্ত্রণ, শক্তিশালী রক্ষণ এবং প্রতিটি বিভাগে সমন্বিত পারফরম্যান্স। পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন ফাইনালেও প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে দলটির অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ৩৮ ম্যাচে উন্নীত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় স্পেনকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। শেষ ৩২-এর ম্যাচ সহজেই জয়ের পর নকআউট পর্বে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হলেও প্রতিবারই দলটি নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। এই অভিযানে তরুণ ফুটবলারদের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। গড়ে ২৬ বছরের কিছু বেশি বয়সের দল নিয়ে মাঠে নামে স্পেন। ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি থেকে শুরু করে পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামস—প্রায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্যের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, সেটিই প্রমাণ করেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের সাফল্যের আরেকটি বড় দিক ছিল স্কোয়াডের গভীরতা। বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ফলে শুরুর একাদশের বাইরে থেকেও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার সক্ষমতা ছিল স্প্যানিশদের। পুরো টুর্নামেন্টে লামিন ইয়ামাল খুব বেশি গোল না করলেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচে খেলে তিনি আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। অন্যদিকে গোল করার দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেন মিকেল ওয়ারজাবাল, ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো ও পেদ্রো পোরো। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়কে অনেকেই স্পেনের সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে দেখছেন। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমোর নিয়ন্ত্রিত মিডফিল্ড ফরাসি আক্রমণভাগকে প্রায় অকার্যকর করে দেয়। কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষকে ছাপিয়ে যায় স্পেন। ফাইনালেও একই ছন্দ বজায় রাখে তারা। বলের দখল, পাসিং এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। এর আগে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় আর্জেন্টিনার লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ দলটিকে ঘিরে স্পেনের সামনে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। ইয়ামাল, কুবারসি, পেদ্রি ও নিকো উইলিয়ামসদের মতো ফুটবলাররা আগামী কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বড় আসরগুলোতেও স্পেনকে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য:০