শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে *** সিরামিক শিল্পের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান *** বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারেই চমক, নিউক্লিয়ার অলিম্পিয়াডে চীনের ৪ পদক *** ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিরক্ষা বলয়, সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


৪ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:সোমবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা সভা ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে পানি, শিক্ষা ও কৃষিভিত্তিক প্রকল্পে অগ্রাধিকার চাইলেন মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অহেতুক ও কম প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করে স্থানীয় জনগণের বাস্তব চাহিদাভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে উন্নয়নের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে। সোমবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সুপেয় পানির সংকট অন্যতম বড় সমস্যা। রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় নারীদের দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট নিচে নেমে পানি সংগ্রহ করতে হতো। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই দূর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি অতীতে প্রয়োজনহীন প্রকল্প গ্রহণের সমালোচনা করে বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তবতার প্রতিফলন থাকতে হবে। জনগণের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে—এমন প্রকল্পই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অর্গানিক ফলের বাগান সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্য ও ফল সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং শিল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন প্রতিমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলার পাড়াকেন্দ্রে নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং মডেল পাড়াকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং রেকর্ডকৃত পাঠদানের ব্যবস্থা চালু করা গেলে দুর্গম অঞ্চলে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা যাবে। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ ‘সবুজ পাতা’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জেলাভিত্তিক স্টেডিয়ামের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। এসডিজি অর্জনে এসব খাতে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তত পাঁচটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করার জন্য তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানান। সভায় তুলা চাষ সম্প্রসারণ, কৃষক দারিদ্র্য বিমোচন, রাঙ্গামাটিতে সংযোগ সড়ক ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন ও ওয়াটারশেড ব্যবস্থাপনা, টেকসই সামাজিক সেবা, খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া ‘সবুজ পাতা’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৬টি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, তিন পার্বত্য জেলার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস





মন্তব্য