শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


৩১ আগস্ট, ২০২৬

খেলা › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:লর্ডসে ইংল্যান্ডের ১৯৪ রানের জয়| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস, লর্ডসে ১৯৪ রানের জয় ইংল্যান্ডের

লন্ডন, ৩০ আগস্ট ২০২৬: সিরিজ বাঁচানোর সমীকরণ কঠিন ছিল পাকিস্তানের সামনে। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারের পর সিরিজ জিততে হলে শেষ দুই টেস্টেই জয়ের বিকল্প ছিল না বাবর আজমের দলের। কিন্তু লর্ডসেও ব্যাটিং ব্যর্থতার একই চিত্র দেখা গেল। দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ১৯৪ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। বৃষ্টির বাধায় ম্যাচের সূচিতে প্রভাব পড়লেও চতুর্থ দিনে ইংল্যান্ড দ্রুত তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে। আগের দিন ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে মাঠে নামা স্বাগতিকরা দিনের প্রথম ৮ ওভারের মধ্যেই ২০৮ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান আসে ড্যান লরেন্সের ব্যাট থেকে। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৫৭ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের অষ্টম ফাইফার পূর্ণ করেন এই পেসার। তবে তাঁর দুর্দান্ত বোলিংও পাকিস্তানকে ম্যাচে সুবিধাজনক অবস্থানে নিতে পারেনি। প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডসহ ইংল্যান্ড পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের জয়ের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। এমন কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার পরিস্থিতিতে পড়ে পাকিস্তান। ৭.১ ওভার শেষ হতে না হতেই ১৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। ওলি রবিনসনের বলে আজান আওয়াইস ৬ এবং আব্দুল্লাহ শফিক শূন্য রানে আউট হন। পাকিস্তানের বিপর্যয় আরও গভীর হয় অধিনায়ক বাবর আজমের বিদায়ে। জফরা আর্চারের বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে একপ্রান্ত আগলে দলের ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন শান মাসুদ। চতুর্থ উইকেটে সৌদ শাকিলকে নিয়ে তিনি ১৩৯ বলে ৯৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাদের এই জুটিতে পাকিস্তানের স্কোর কিছুটা স্থিতিশীল হয় এবং ম্যাচে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে সেই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩১তম ওভারে রবিনসনের বলে ২৬ রান করা শান মাসুদ আউট হলে ভেঙে যায় পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর একই বোলারের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানও ফিরে যান। এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র ১ রান করেন পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান সংগ্রহ করা পাকিস্তান চা-বিরতির আগে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। বিরতিতে যাওয়ার সময় তাদের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৪০ রান। কিন্তু বিরতির পর ইংলিশ বোলারদের সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা। তৃতীয় সেশনে মাত্র ৫৩ বলের ব্যবধানে পাকিস্তানের শেষ চার ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠায় ইংল্যান্ড। ৪৮ রান যোগ করতেই ১৯৪ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস। ইমাম উল হক খেলতে না পারায় মোহাম্মদ আলীর উইকেটটি হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের শেষ উইকেট। সৌদ শাকিলের ৯৭ রানই পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। দলের অন্য ব্যাটাররা প্রত্যাশিত অবদান রাখতে না পারায় তাঁর লড়াই শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ইংল্যান্ডের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ওলি রবিনসন। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৫ রান দিয়ে ৮ উইকেট শিকার করেন তিনি। দুই ইনিংসেই চারটি করে উইকেট নেওয়া রবিনসনই নির্বাচিত হন ম্যাচসেরা। এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ২৯০ রানে অলআউট হওয়ার পর পাকিস্তানের ব্যাটিং আরও বড় হতাশা উপহার দেয়। মাত্র ১১০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৮ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানে পাকিস্তানের ইনিংস থামিয়ে লর্ডসে বড় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ফলে সিরিজের শেষ টেস্টের আগেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।





মন্তব্য