৩১ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

চিত্র:পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে ২০ জন নিহত হয়।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
রাওয়ালাকোট, ৩১ জুলাই: পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে নির্বাচন বর্জন আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালাকোটের দ্রিক এইথ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালায়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। নিহতদের মধ্যে জয়েন্ট প্রটেস্ট অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মীরির ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে শুরু হওয়া আন্দোলনের পর এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। এনডিটিভি কয়েকটি ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানিয়েছে, সড়কে বিক্ষোভকারীদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী জনতার দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। কাশ্মীরভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাওয়ালাকোটের বিভিন্ন সড়কে মরদেহ পড়ে আছে এবং আহত মানুষের আর্তনাদে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রাণ বাঁচিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে এলেও এত মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করার পর তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। আহতদের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মনোযোগ কামনা করে তিনি বলেন, স্থানীয়দের পক্ষে এত বিপুলসংখ্যক হতাহত সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার নির্বাচনী কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার প্রায় ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে স্নাইপারও অবস্থান নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে অনেক এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বাকি আটটি আসন নারী, টেকনোক্র্যাট ও ধর্মীয় প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। ইতোমধ্যে মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মুজাফফরাবাদ বিভাগের নয়টি আসন ও ১২টি শরণার্থী আসনে আগামী ২ আগস্ট এবং পুঞ্চ বিভাগের ১১টি আসনে ১০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।
মন্তব্য:০