শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


৮ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরবেন সাকিব, আদালতের মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, সরকার যদি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও তিনি রাজি বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে আগ্রহী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব না হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন। তার ভাষায়, দলের নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি সেটিই অনুসরণ করবেন। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনও অবসর নেননি উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে চান। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামারও ইচ্ছা রয়েছে তার। তবে ৩৯ বছর বয়স হওয়ায় অবসরের সিদ্ধান্ত খুব বেশি সময় ঝুলিয়ে রাখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাকিব। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সরকারের পতনের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং এরপর আর দেশে ফেরেননি। সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর আবারও আলোচনায় আসেন সাকিব। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি শান্তি ও বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান। সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশে তার ফাঁকা বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। সাকিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তার ভাষায় ‘বানোয়াট’ মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দেশে ফেরার আগের একটি প্রচেষ্টার কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন সাকিব। তিনি জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিতও করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। পরে তিনি দুবাই হয়ে আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান। তার প্রশ্ন, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটি তিনি আজও জানেন না। তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৫৭ দিনের প্রস্তুতির পরও সে সময় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। পরে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর আবারও তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। সাকিবের ভাষ্য, ওই পোস্টকেই দেশে ফিরতে না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে দেশে ফেরা সহজ হতে পারে—এমন পরামর্শও তিনি পেয়েছিলেন। তবে এমন প্রস্তাব বিবেচনারও প্রশ্ন ওঠে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তার দাবি, যেদিন মামলাটি করা হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। তাই এটিকে তিনি ‘হাস্যকর মামলা’ বলে উল্লেখ করেন। সাকিব আরও অভিযোগ করেন, তদন্তের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত অর্থ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি। তার বক্তব্য, দীর্ঘদিন দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা খেলোয়াড় হিসেবে সব ধরনের কর পরিশোধ করেছেন। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে তিনি প্রস্তুত, কিন্তু কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে হিসাব অবমুক্ত করা উচিত। ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে সাকিব জানান, গত দুই বছরে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মাকেও বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবার পরিস্থিতি সামাল দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স।





মন্তব্য