১৯ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে পুরো নিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে অনলাইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশফেরতদের পুনঃএকত্রীকরণ: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা, বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এ জন্য পুরো প্রক্রিয়াকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, অবৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করাও জরুরি। তিনি বলেন, এসব চক্র নিজেদের আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এরই মধ্যে অবৈধ অভিবাসনের রুটগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ থেকে শুরু করে মাদারীপুরসহ কয়েকটি জেলায় আগামী এক মাস ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেকেই জমিজমা ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করেন। কিন্তু বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে শুধু ওই ব্যক্তি নন, তার পুরো পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়ে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। তাই নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিদেশি নিয়োগকর্তারা যে ধরনের কর্মী চান, বাংলাদেশ থেকে অনেক সময় সেই অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব হয় না। কোনো দেশে প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ানের চাহিদা থাকলেও ওই কাজে পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন ব্যক্তিকে পাঠানোর ঘটনাও ঘটে। এর ফলে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা উভয়েই সমস্যার মুখে পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে নিয়োগকর্তার প্রতিনিধি বা প্রশিক্ষককে বাংলাদেশে এনে কর্মীদের দক্ষতা যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানান মন্ত্রী। কোনো দেশ নির্দিষ্ট দক্ষতার কর্মী চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধি বা প্রশিক্ষক বাংলাদেশে এসে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই করবেন। তাদের সন্তুষ্টির পরই কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয় হাজার চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে এ ধরনের পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি সেবার জন্য প্রবাসীদের অনেক সময় দূতাবাস বা কনস্যুলেটে গিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হয়। তাই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কিছু সেবা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে প্রবাসীদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন আরিফুল হক চৌধুরী। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ কার্ড চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবাতেও প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সূত্র: প্রথম আলো।
মন্তব্য:০