২৮ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:সমুদ্রপথে ৩৭ জন সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
২৮ আগস্ট: যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে জীবন বাঁচাতে সুদান ছেড়েছিলেন তারা। লক্ষ্য ছিল লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া। কিন্তু সেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার শেষ হলো মর্মান্তিক পরিণতিতে। অন্তত ৩৭ জন সুদানি অভিবাসী সমুদ্রপথে প্রাণ হারিয়েছেন। সুদানের নাগরিক কমিটি এল-ফাশার রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশন এক বিবৃতিতে এই প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে। তাদের প্রকাশিত নিহতদের তালিকায় একাধিক নারী ও শিশুর পাশাপাশি পুরো পরিবারের সদস্যদের নামও রয়েছে। সংস্থাটি জানায়, সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাহীনতা ও জীবনহানির আশঙ্কা থেকেই এসব মানুষ দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে পালিয়ে তারা লিবিয়ায় যান। পরে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানোর আগেই ঘটে যায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। নিহতদের তালিকায় মাত্র ৭ মাস বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। একই তালিকায় ৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী বেশ কয়েকজন শিশুর নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও ছিল। নিহতদের বেশির ভাগই সুদানের সংঘাতপ্রবণ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এল ফাশার, এল জেনেইনা, নেয়্যালা, গেদারেফ, ইস্ট নাইল ও বাবানুসাসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তারা এসেছিলেন। এল-ফাশার রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় এল ফাশারের বাসিন্দারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। যুদ্ধের কারণে নিজেদের শহর ছাড়ার পরও তারা নিরাপদ থাকতে পারেননি। বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রার পথেও মৃত্যুর ঝুঁকি তাদের পিছু ছাড়েনি। সংগঠনটি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, ‘মৃত্যু এল ফাশারের মানুষকে কোথাও রেহাই দেয়নি; তা তাদের নিজেদের শহরে, বাস্তুচ্যুতির পথে, অভিবাসনের রাস্তায় এবং সমুদ্রেও পিছু ছাড়েনি।’ সুদানের মানবিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আরএসএফ এল ফাশার দখলে নেওয়ার পর সেখানে বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ ওঠে। সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। সংঘাতের দুই বছরের বেশি সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধ থেকে বাঁচতে সুদানের নাগরিকদের একটি অংশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ লিবিয়ার মতো দেশ হয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশায় নেওয়া এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিতে পরিণত হচ্ছে। লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ৩৭ সুদানি অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনাটি যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষের অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক যাত্রার নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরেছে। নিহতদের তালিকায় শিশুদের উপস্থিতি এই মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
মন্তব্য:০