৯ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বাস্থ্য

চিত্র:দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই) সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
নগর এলাকার শিশু, নারী ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল দেশব্যাপী সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের মতে, এ মডেল নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় আলো ক্লিনিকের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা, অর্জিত ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আলো ক্লিনিক, ইউনিসেফ, সুইডেন দূতাবাস ও পিএইচডির যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় জানানো হয়, ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছয়টি আলো ক্লিনিক জাতীয় Essential Services Package (ESP++)-এর আওতায় বিনামূল্যে সমন্বিত ও ডিজিটাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। আলো ক্লিনিকে মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি মূল্যায়ন, রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৬৮ জন রোগী এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া কমিউনিটি আউটরিচ ও ডিজিটাল গৃহভিত্তিক পরিদর্শনের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী শনাক্ত, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরিবারগুলোকে যুক্ত করা হচ্ছে। কর্মশালায় জানানো হয়, চারটি আলো ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি Urban Health and Demographic Surveillance System (UHDSS)-এর তথ্য অনুযায়ী, আলো ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালিত এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক প্রসব বেড়েছে এবং নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার কমেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি বলেন, মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বা বসবাসের স্থান যাই হোক না কেন, সবার জন্য সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনগণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নগরায়ণের ফলে নিম্নআয়ের ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি আলো ক্লিনিকের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। আগামী সপ্তাহেই একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি উপজেলা, জেলা হাসপাতাল ও জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকায় রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ডেপুটি প্রতিনিধি অ্যামানুয়েল অ্যাব্রোক্স, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)
মন্তব্য:০