শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৮ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।| |ক্রেডিট : রয়টার্স

নেপালে নিখোঁজ ১,৪০০-এর বেশি, ৪৮৯ মরদেহ উদ্ধার; পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তা চায় নেপাল

কাঠমান্ডু, ২৮ আগস্ট ২০২৬: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল এখন পর্যন্ত ৪৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকসহ ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিপুল প্রাণহানির এই পরিস্থিতিতে ভারত, বাংলাদেশ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ জানালেও নেপাল আপাতত তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী নিজেরাই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তাই এই মুহূর্তে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই। তবে দুর্যোগের পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে আর্থিক এবং অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো উদ্ধার তৎপরতায় সরাসরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া এরই মধ্যে নিজেদের নাগরিকদের সন্ধানে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। দেশটি ত্রাণবাহী দল পাঠানোরও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তারা বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণ করবে না। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রস্তাব পাওয়া স্বাভাবিক। তবে নেপালের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এ মুহূর্তে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা দক্ষিণ কোরিয়ার নয়জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে দক্ষিণ কোরিয়া সহায়তা করতে চাইলেও কাঠমান্ডু জানিয়েছে, বর্তমানে নেপালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলা অন্যতম। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভয়াবহ বন্যা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিদেশি উদ্ধারকারী দল কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন জাতিসংঘে নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত দিনেশ ভট্টরাই। তাঁর মতে, রাসুওয়া জেলার ভৌগোলিক অবস্থান বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দিনেশ ভট্টরাই বলেন, চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটির কৌশলগত ও ভৌগোলিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করে নেপাল সরকার হয়তো বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন কোনো ব্যাখ্যা মানছে না। মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার সংবেদনশীলতার কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য যথেষ্ট সক্ষম। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নিলেও নেপাল আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতার পর ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। লোক বাহাদুর ছেত্রী এএফপিকে বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী এ কাজ করতে সক্ষম। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কিংবা বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চাওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, নেপাল কোনো সহায়তাই প্রত্যাখ্যান করছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করছে। পরবর্তী পর্যায়ে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন হবে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং পুনর্গঠনের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এখন উদ্ধার ও তল্লাশিই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। সে পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও বড় ধরনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি ও কাঠমান্ডু পোস্ট।





মন্তব্য