২৯ জুলাই, ২০২৫
স্বদেশ › রাজনীতি

চিত্র:গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতা| |ক্রেডিট : সিডনি বাংলা নিউজ
নাটোর, ২৯ জুলাই ২০২৫ – নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মদপুর বাজারে চাঁদা না দেওয়ায় ১০টি দোকানঘরে তালা ঝুলিয়ে দখল করার অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একইসঙ্গে দখলকৃত দোকানগুলো দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দিয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে আজ মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জোয়াড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং আহম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪৫), তার ভাই জামায়াত কর্মী আজিমুদ্দিন (৪০), স্থানীয় বিএনপি কর্মী হায়দার আলী (৪৫) এবং তার বাবা মুজিবর রহমান (৭০)। ঘটনার বিস্তারিত বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কোরবান আলী, শাহ আলম এবং মোতালেব হোসেন আহম্মদপুর বাজারে জমি কিনে ১০টি দোকানঘর নির্মাণ করেন। তাদের নামে এসএ এবং আরএস খতিয়ান রয়েছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করছেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে রুহুল আমিন, আজিমুদ্দিন, হায়দার আলী, মুজিবর রহমানসহ ৪০-৫০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে গিয়ে দোকানপ্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা দেওয়ার জন্য কোরবান আলীদের হুমকি দেন। তারা রাজি না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ১০টি দোকানঘরে তালা ঝুলিয়ে দখল করে নেন। দোকান না ছাড়লে ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও বড়াইগ্রাম থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা যৌথভাবে সন্ধ্যায় বাজারে অভিযান চালান। এ সময় দোকানগুলোর তালা ভেঙে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং চার অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য ভুক্তভোগী মোতালেব হোসেন বলেন, “উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল মালেক আমাদের প্রতি দোকান বাবদ মাসিক পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা ধার্য করে দেন। আমরা তাতে রাজি হইনি। কারণ, আমরা এসব দোকানের জমি ৭০ বছর ধরে ভোগদখল করছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাদের দোকানগুলোতে তালা দিয়ে দেন। ঘটনাটি আমরা পুলিশ–সেনাসদস্যদের জানালে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে আমাদের দোকানগুলো উদ্ধার করে দিয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” তবে গ্রেপ্তারের আগে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন বলেন, “দোকানের জমির মালিক আমরা। দীর্ঘদিন ওই জমি বেহাত ছিল। এখন আমরা দখলে গেছি। ভাড়া দাবি করেছি। তাই চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।” তবে দোকানে তালা লাগানো ঠিক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। মামলার চার আসামিকে সেনাসদস্যরা আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য:০