শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৬ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › শিক্ষা

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।| |ক্রেডিট : ছবি: পিএমও

নারী শিক্ষায় সরকারের বড় ঘোষণা, অনার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়ার সুযোগ

নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষার যাবতীয় ব্যয় সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি যেসব নারী শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকারি উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টার দিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। সেখানেই নারী শিক্ষার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিপুলসংখ্যক নারীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। নারীরা শিক্ষায় পিছিয়ে থাকলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সরকার নারী শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।’ নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে নারীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। মেধাবী নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বৃত্তির ব্যবস্থার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।’ শুধু উচ্চশিক্ষায় নারীদের সহায়তা নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দরিদ্র পরিবারের যেসব শিশু পড়াশোনা করে, তাদের বছরে একবার করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর কাছে স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও সহায়ক করে তোলার লক্ষ্য সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।’ নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যেসব নারী পরিবারের প্রধান এবং সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলায় এ কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এর বাস্তবায়ন আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নারী শিক্ষাকে অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করা, ভালো ফল করা ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেওয়া, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ সরবরাহ এবং পরিবারপ্রধান নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে তিনি নারীদের শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়া এবং তাদের স্বাবলম্বী করে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কথা জানান। সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য।





মন্তব্য