১২ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:নাইজেরিয়ায় সেনা অভিযান| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা অঙ্গরাজ্যে সেনাবাহিনীর দুই দিনব্যাপী অভিযানে ৩০০ জনের বেশি সশস্ত্র ডাকাত ও অপহরণকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার। শনিবার (১১ জুলাই) জামফারা অঙ্গরাজ্যের তথ্য কমিশনার মাহমুদ মুহাম্মদ দান্তাওয়াসা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গুম্মি জেলার একটি বড় ডাকাত ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এ সাফল্য পেয়েছে। অভিযানে ৩০০-এর বেশি সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় থাকা অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান। নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, গবাদিপশু চুরি এবং বিভিন্ন ধরনের হামলা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এসব অপরাধী গোষ্ঠী শুধু লুটপাট ও অপহরণেই সীমাবদ্ধ নেই, অনেক ক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকেও অর্থ দাবি করে। অর্থ না দিলে হামলা চালানো এবং ফসল নষ্ট করার ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার রাতে প্রায় এক হাজার সশস্ত্র ডাকাত গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা যৌথ অভিযান শুরু করে। রাতভর এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে ৩০০-এর বেশি ডাকাত নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুবকর মুহাম্মদ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একই ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছিল সেনাবাহিনী। তবে সে সময় ডাকাতদের সংখ্যা বেশি থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। এবার পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে ওই ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে। জামফারা সরকার বলছে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকট পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ বেড়েছে। দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এসব গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। নাইজেরিয়া বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সাম্প্রতিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে কিছু সাফল্য পেয়েছে দেশটির সরকার। গত মে মাসে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের এক শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ২০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ। এদিকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জিহাদিদের হাত থেকে ৪০ জনের বেশি শিশুকে উদ্ধারের অভিযানে তাদের কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ এতদিন ওই অঞ্চলকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সরকারের জন্য জামফারার অভিযান একটি ইতিবাচক বার্তা হলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাইজেরিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো দীর্ঘ। সূত্র: এএফপি
মন্তব্য:০