৩১ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
৩০ আগস্ট ২০২৬: আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকটেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এবং এ কারণে শান্তিরক্ষা বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো ক্ষেত্র নয়। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরব পবিত্র মসজিদগুলোর রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ এলে পরবর্তী অবস্থান ও বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং সবচেয়ে বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ফলে শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশকে যুক্ত করা হলে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে। “আমরা এর জন্য স্বীকৃতি পাচ্ছি। আমরা বিশ্বজুড়ে এটি করি। তাহলে আমরা কেন আমাদের মুসলিমদের জন্য এটি করতে পারি না”—বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে সম্ভাব্য উদ্যোগটির কথা বিবেচনা করছে, সেটিকে একটি অনন্য চুক্তি বা উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের সামনে একটি নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ব এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অস্থিতিশীল। এই বাস্তবতায় একটি জোটে থাকার কারণে অন্য কোনো জোট বা উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার নীতি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিকে এখন আরও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, কোনো দেশ একটি নির্দিষ্ট জোটের অংশ হলেই অন্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বা অবদান রাখার সুযোগ হারাবে—এমন কাঠামো বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সব সময় কার্যকর নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য নমনীয় ও সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা জরুরি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে তার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান বজায় রাখা। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
মন্তব্য:০