২৮ আগস্ট, ২০২৬
প্রবাস › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
২৮ আগস্ট ২০২৬: সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পর এবার কুয়েতের সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চুক্তি করেছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল সাবাহ ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছান। বৈঠক ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিটির লক্ষ্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করা। সামরিক খাতে বিদ্যমান সম্পর্কের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সুযোগও এ চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হবে। এ চুক্তি এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে উত্তপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ধারাবাহিক হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। এই সংঘাতে পাকিস্তানের অবস্থানও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুঁজতে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এদিকে কুয়েতের সঙ্গে চুক্তির মাত্র কিছুদিন আগে পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয়। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানটির নাম অনুসারে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এটি ‘মক্কা জোট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই জোটে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও আর্থিক শক্তি, তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সৌদি-তুরস্কের সঙ্গে ওই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েতের সঙ্গে আলাদা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে গেল পাকিস্তান। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আঞ্চলিক সংঘাত, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের ধারাবাহিক সামরিক কূটনীতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কুয়েতের সঙ্গে নতুন চুক্তি সেই বৃহত্তর কৌশলগত তৎপরতারই অংশ কি না, তা নিয়ে আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য ন্যাশনাল।
মন্তব্য:০