শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৮ আগস্ট, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:ফাইল ছবি।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

মিয়ানমারের ৫ হাজার নাগরিককে ফেরাবে মালয়েশিয়া, প্রথম দফায় ১,৪৭৬ জন

কুয়ালালামপুর, ২৮ আগস্ট: মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিকদের একটি বড় অংশকে ধাপে ধাপে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে কুয়ালালামপুর। এর আওতায় প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে মিয়ানমারে পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের পরিচয় মিয়ানমার সরকারের ১৩ আগস্টের কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী সমন্বয় সভায় প্রত্যাবাসনের সময়সূচিও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রথম দফার প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে দাবি করা মিয়ানমারের ৪ হাজার ৮ জন নাগরিককে ২০২৬ সালে ‘ডকুমেন্ট পেন্ডাফতারান পেলারিয়ান’ বা ডিপিপি নিবন্ধন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি আরও ৫ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবেন। দেশটির ইমিগ্রেশন ডিপোগুলোতে আটক মিয়ানমারের নাগরিকদের বিষয়েও পৃথকভাবে যাচাই চলছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৩৮৮ জন মিয়ানমারের নাগরিক আটক ছিলেন। মালয়েশিয়া সরকার স্পষ্ট করেছে, আটক থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ যৌথভাবে এসব ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব, অভিবাসন পরিস্থিতি, শরণার্থী হিসেবে দাবি এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। যারা ডিপিপি কর্মসূচির নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করবেন, নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর তাদের ডিপিপি কার্ড দেওয়া হবে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত ও সরকারি পর্যবেক্ষণের অধীনে তারা সাময়িকভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন। অন্যদিকে, স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী এবং প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে। এরপর মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। মালয়েশিয়ার সামগ্রিক পরিকল্পনায় প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিদের নিবন্ধন এবং তাদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির বিষয়টিও রয়েছে। এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। মালয়েশিয়ায় থাকা শরণার্থীদের বড় অংশই মিয়ানমার থেকে আসা। দেশটির শরণার্থী জনগোষ্ঠীর ৯৫ শতাংশের বেশি মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা, চিন, কারেন ও মন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা রয়েছেন। এ বাস্তবতায় মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুর বলছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রম কোনো একতরফা পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্মতি ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়া একদিকে দেশটিতে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের অবস্থান ও পরিচয় নির্ধারণ করতে চায়, অন্যদিকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আগ্রহীদের নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগও এগিয়ে নিতে চায়। সূত্র: রয়টার্স।





মন্তব্য