৩১ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

চিত্র:রুশ ড্রোন হামলা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
কিয়েভের বুচা জেলার মিলা গ্রামে আবাসিক এলাকার কাছে একটি অস্ত্রের গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। আহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে ওই গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর সেখানে মজুত থাকা গোলাবারুদ, মাইন ও ড্রোনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শুরু হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের প্রায় ১৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গুদাম স্থাপনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান। জেলেনস্কির ভাষ্য, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক রাখার জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করা গুরুতর অবহেলার শামিল। কারণ ইউক্রেনের নিয়ম অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা বা বাড়িঘরের কাছাকাছি গোলাবারুদ সংরক্ষণ করার কথা নয়। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, মিলা গ্রামের একটি গোলাবারুদের গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেখানে দীর্ঘপাল্লার চালকবিহীন ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান এবং সেগুলো উৎক্ষেপণের সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা ছিল। বিস্ফোরণের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শত শত মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা লিউবভ পাভলেনকো, যাঁর বাড়ি বিস্ফোরণের স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে, জানান তাঁর বাড়ির দেয়াল ও জানালায় বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। ৪৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দা বলেন, ঘটনার পর তিনি এখনো হতবাক এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছেন না। তাঁর মতে, ঘটনার প্রকৃত মানসিক প্রভাব হয়তো পরে আরও স্পষ্ট হবে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চাইছেন, রাশিয়ার নিয়মিত ড্রোন ও বিমান হামলার আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন একটি আবাসিক এলাকার এত কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম রাখা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ন, এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা কতটা নিরাপদ ছিল। এটি কিয়েভের আশপাশে আবাসিক এলাকার কাছে অস্ত্রের গুদামে হামলার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে জুলাই মাসে কিয়েভের কাছে ভিশনেভে একটি অস্ত্রের গুদামে হামলার পর একই ধরনের বড় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারান, আহত হন বহু মানুষ এবং ২৮০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরপর এমন ঘটনায় ইউক্রেনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের মধ্যে জনবসতির কাছাকাছি সামরিক স্থাপনা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মিলা গ্রামের ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের গুদামটি আবাসিক এলাকার এত কাছে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য:০