শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২৪ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে অ্যাম্বুলেন্স, বাড়ছে টহল ও জরুরি সেবা

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ, আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। সোমবার তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, চালক ও পথচারীদের সচেতন করা, সড়কে আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু পরিচিত কারণ রয়েছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও অযোগ্য চালক, অতিরিক্ত গতি, অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালানো, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট না পরা এবং পথচারীদের অসচেতনতা এর মধ্যে অন্যতম। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু আইন করলেই হবে না, তার যথাযথ প্রয়োগ এবং মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা হবে। এর পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে থাকা বাজারগুলো অন্যত্র স্থানান্তর, আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে প্রয়োজনীয় ডাইভারশন তৈরি এবং সড়কে স্পষ্ট মার্কিং ও সাইনেজ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক চালক পরিবহন খাতে হেলপার হিসেবে কাজ করতে করতে গাড়ি চালানো শেখেন। কিন্তু গাড়ি চালাতে জানা এবং একজন দক্ষ ও নিরাপদ চালক হওয়া এক বিষয় নয়। মহাসড়কের নিয়ম-কানুন, নিরাপদ গতি, ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি পরিচালনার বিষয়ে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন যুক্ত হওয়া বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে। মহাসড়কের কাছাকাছি হাসপাতালগুলোতে পৃথক ইউনিট রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ট্রমা সেন্টারগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারণ দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারের বিনিয়োগের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা ও সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রতিটি টাকা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কার্যকরভাবে ব্যয় করতে হবে। জনগণের অর্থ ব্যয় করে এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়, যার বাস্তব সুফল জনগণ পাবে না। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা তৈরিও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন করতে না পারলে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুততম সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গাড়ির গতি যেন মানুষের জীবন থামিয়ে দেওয়ার কারণ না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, সরকার একই সঙ্গে সড়কের নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বাড়াতে চায়। তবে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়কেই সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ, বাসযোগ্য ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, এমপি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিবহন, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প দেশের প্রথম বহুখাতভিত্তিক ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-নির্ভর উদ্যোগ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআরটিএ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স জয়দেবপুর-হাটিকামরুল-বগুড়া-রংপুর, হাটিকামরুল-নাটোর-রাজশাহী এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়কের প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স এবং ৮০টি হাইওয়ে প্যাট্রোল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা মোকাবিলা ও মহাসড়কে নজরদারি জোরদারে ব্যবহৃত হবে। অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনের পরিচালক জ্যঁ পেম (Jean Pesme) এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।





মন্তব্য