শিরোনাম
সিডনিতে ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই’ স্মরণে বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার দোয়া ও আলোচনা সভা *** দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্য স্থান নিয়ে চলছে সমীক্ষা, সিদ্ধান্ত পরে *** ডেঙ্গুতে আরও ২ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ৬৭২ *** মাতারবাড়ীতে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ *** চীনে এআই ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৫ জুলাই, ২০২৬

খেলা › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:মেসি বনাম কেইন| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

মেসি বনাম কেইন: বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনা, চাপ আর ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াইকে ঘিরে আগ্রহ যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে। চার দশক আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ম্যাচের স্মৃতি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অম্লান। সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। এই লড়াই শুধু দুটি দলের নয়, দুই অধিনায়কেরও। একদিকে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। একজন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা শিল্পী, অন্যজন আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে ধারাবাহিক গোলদাতাদের একজন। তাই ম্যাচের কৌশল, দলগত পারফরম্যান্স কিংবা রণনীতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, নজর থাকবে মূলত এই দুই তারকার দিকেই। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি মাঠে নেমে নিজের অনন্য দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শেষ চারে তুলতে তিনি ইতোমধ্যে আটটি গোল করেছেন, সঙ্গে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ সাজানো, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ৩২ বছর বয়সী হ্যারি কেইনও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। এবারের আসরে ছয়টি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলতে বড় অবদান রেখেছেন। গোলের সামনে তার নিখুঁত ফিনিশিং এবং চাপের মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইংল্যান্ডের অন্যতম বড় শক্তি। দুই অধিনায়কের খেলার ধরন ভিন্ন হলেও দায়িত্ব পালনে রয়েছে মিল। মেসি সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং ও পাসিংয়ে প্রতিপক্ষকে ভেঙে দেন, আর কেইন সুযোগ পেলেই তা গোলে রূপ দেন। একজন খেলেন শিল্পীর মতো, অন্যজন যোদ্ধার দৃঢ়তায়। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করার পর মেসি বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় দলগুলোর বিপক্ষে খেললেও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আগে হয়নি। মেসির ভাষায়, ইংল্যান্ড ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই রোমাঞ্চকর। ব্যক্তিগতভাবে এই ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার স্মরণীয় পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, সেই ম্যাচের ভিডিও ও ছবি আর্জেন্টিনায় এখনও নিয়মিত দেখা হয়। তবে বর্তমান দল অতীতের আবেগ নয়, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাতেই বিশ্বাসী। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আবারও সেমিফাইনালে ওঠাকে তিনি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এবারও ফাইনালে জায়গা করে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে দল। অন্যদিকে, নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে কিছু ঘাটতি থাকলেও দল সেগুলো কাটিয়ে উঠতে কাজ করেছে। তার বিশ্বাস, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড আরও পরিণত ও শক্তিশালী ফুটবল খেলবে। মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা নিয়ে কেইন বলেন, এটি কোনো একক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ নয়; বরং শক্তিশালী আর্জেন্টিনা দলের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের লড়াই। ইতিহাস কিংবা অতীতের বিতর্ক নয়, দলের পারফরম্যান্সই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের অধীনে দল আরও আত্মবিশ্বাসী বলেও জানান কেইন। তার মতে, দলে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে বড় ম্যাচে সেরাটা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এবারও সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই অধিনায়কের ব্যক্তিগত লড়াই। শেষ পর্যন্ত ফাইনালের টিকিট কার হাতে উঠবে, সেটি নির্ধারণ হতে পারে মেসির জাদুকরী মুহূর্তে কিংবা কেইনের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। সেই উত্তর মিলবে আজ রাতের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে।





মন্তব্য