শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


৯ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › স্বদেশ

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| |ক্রেডিট : সংগৃহীত

মাতারবাড়ীতে বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং নেন। এ সময় কর্মকর্তারা কেন্দ্রটির বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তাকে অবহিত করা হয়। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন। পরে প্রকল্প এলাকায় একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে গঠিত মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। এতে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহণের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে।প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ব্রিফিং শেষে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থানে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। মাতারবাড়ীর একই এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প ও নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শন করেন। পরে এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং বিভিন্ন প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী কোল জেটিতে যান। সেখান থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। কয়লা পরিবহণ ও খালাসের জন্য বন্দর অবকাঠামোর সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কেও তাকে বিস্তারিত জানানো হয়। এ ছাড়া প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় তার সামনে তুলে ধরেন। পরিদর্শনের সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। এসব অবকাঠামোর পরিকল্পিত ও কার্যকর ব্যবহার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাতারবাড়ী প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে কয়লা পরিবহণের বন্দর, সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোডসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো সমন্বিতভাবে এ বৃহৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কাজ করছে। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: প্রদত্ত সংবাদ প্রতিবেদন।





মন্তব্য