শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর, রামপালে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্পের উদ্যোগ *** বন্ধ পত্রিকা চালুর তাগিদ, সাংবাদিকদের ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির *** এসআরবি বিল সংসদে তোলার সুপারিশ, র‌্যাবের জনবল-অবকাঠামো কাজে লাগানোর তাগিদ *** গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি *** ডেঙ্গুতে এক দিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে আরও ১,৫৭১ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক:

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:নেপালের রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

‘করুণা নয়, নৈতিক দায়বদ্ধতা’—জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি নেপালের

প্রাণঘাতী বন্যা ও হিমবাহ ধসের পর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বিশেষ করে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জলবায়ু বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করা কোনো করুণার বিষয় নয়, বরং নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদনের বরাতে বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে টাইমস নাউ। শিশির খানাল বলেন, বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা দেশগুলোর নেপালের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের প্রতি ঐতিহাসিক দায় রয়েছে। এসব দেশের কর্মকাণ্ডের কারণে যেসব রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গত ২৬ আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপালে ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনের অংশে আরও ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধস থেকেই এ বিপর্যয়ের সূত্রপাত। ঘটনাটির সময় বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় মানুষ কোনো আগাম সতর্কতা পাওয়ার সুযোগ পাননি। কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভয়াবহ এই ঘটনাকে ‘পাহাড়ি সুনামি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে নেপালের অংশ মাত্র ০.০৪ শতাংশ। কিন্তু জলবায়ু সংকট তৈরিতে যাদের ভূমিকা বেশি, তাদের কর্মকাণ্ডের পরিণতিতে নেপালের মতো দেশগুলোকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নেপাল তার জলবায়ু কূটনীতির ধরনেও পরিবর্তন আনছে। দেশটি শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন না করে এখন জলবায়ু ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টিকে সামনে আনছে। খানাল জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতেও নেপাল এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ৬১.৮ শতাংশের জন্য চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সম্মিলিতভাবে দায়ী ছিল। অবশ্য ভারত তার তুলনামূলক কম মাথাপিছু নিঃসরণের বিষয়টি তুলে ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ও আর্থিক সহায়তার দাবি করে আসছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞ শাস্বত স্যান্যাল এবং জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচক মনজিৎ ধকাল বলেন, বিশ্বব্যাপী মোট নিঃসরণে নেপালের অংশ ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে দেশটিকে বারবার বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাঁরা জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখা দেশগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। সূত্র: টাইমস নাউ, দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট





মন্তব্য