১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষি ও কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন। কৃষকের ঋণ মওকুফ, কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং কৃষকের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ একের পর এক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের উন্নয়নকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। কৃষকের জীবনমান উন্নত হলে দেশের অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কৃষিপণ্যে স্বনির্ভরতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একসময় বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানি করতে হতো। তবে বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা বাড়ছে। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আগামী দিনে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আর পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না; বরং আমরা পেঁয়াজ রপ্তানির চিন্তা করব।’ ভবিষ্যতে আরও কিছু কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে সেগুলো রপ্তানির দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানান। আলোচনায় গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতার বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী এবং জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। ইতিহাসে কোনো সরকারই জনগণের ওপর স্থায়ীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, সময়ের পরিক্রমায় অনেক শক্তিশালী শাসক ও সরকারেরও পতন হয়েছে। তাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকৃত উৎসও জনগণ। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। জিয়াউর রহমানের সততা, দায়িত্ববোধ ও সাধারণ জীবনযাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ এবং জীবনযাপন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। আলোচনা সভায় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া এমপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিবসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সূত্র: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়
মন্তব্য:০