শিরোনাম
বাংলাদেশের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট কর্মসূচিতে সহযোগিতায় আগ্রহী ফ্রান্স *** ড্রোনে ত্রাণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও পশু চিকিৎসা—বন্যাদুর্গত হবিগঞ্জে বিজিবির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ *** বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে মার্কিন সহায়তা ১০ লাখ ডলার *** হজ ফ্লাইটের কর-চার্জ কমাতে সৌদি সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ *** প্রাথমিক শিক্ষায় STEM ও প্লে-ল্যাব চালুর পরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট:


৭ জুলাই, ২০২৬

আন্তর্জাতিক › আন্তর্জাতিক

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংকট| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংকট, ১,৫৬১ আক্রান্ত; মৃত্যু ৫০৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মে মাসের মাঝামাঝি এই প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫৬১ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেখানে সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটিতে মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার প্রায় ৩২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি আরও ৩৫৪টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বর্তমান সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। যদিও চারটি প্রদেশে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, তবুও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতুরি অঞ্চল। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার বিরল বান্ডিবুগিও প্রজাতি, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে দেশটিতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এতে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি-১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির পৃথকভাবে ও যৌথভাবে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, পরবর্তী মহামারি বিশ্বের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করবে না। তার মতে, কঙ্গোতে চলমান ইবোলা পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে সংক্রামক রোগের হুমকি এখনো বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। এদিকে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ইতুরির অন্তত চারটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যেখানে প্রায় দুই লাখ ৭৩ হাজার মানুষ জরুরি মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে অর্থসংকটও সংকট মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে ডিআর কঙ্গোর জন্য ১৪০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা তহবিল চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে মাত্র ৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। একই সময়ে দক্ষিণ কিভু অঞ্চলে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাও আরও জটিল হয়ে উঠছে। সূত্র: এনডিটিভি





মন্তব্য