৪ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ।| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবারের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ভবিষ্যতে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। শনিবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের শক্তি শুধু সমুদ্রবন্দরেই সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য এর ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্ব দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে ৬০০ একর জমিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক্যাল হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার প্রতিফলন চলতি বাজেটেও রয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ভবিষ্যতে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় কমাতে কর্ডলাইন নির্মাণ করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক করিডর আরও গতিশীল হবে এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ী এলাকায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন কার্যক্রমও এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, এসব পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি হলেও সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। কয়েক বছরের মধ্যে প্রকল্পগুলোর সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় বাজেট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এমন একটি কঠিন সময়ে বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন সহজ নয়। তাই প্রথমে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। তাঁর মতে, পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং দেশের অর্থনীতি পুনরায় শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। সূত্র: প্রথম আলো।
মন্তব্য:০