১৯ জুলাই, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠান| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মন্ত্রী বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে অতীতের এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নানা ঘাটতির কারণে দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবুও ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে এ অগ্রযাত্রা সফল হবে। তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম চলমান প্রক্রিয়া। জনগণের অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অবদান ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তিনি অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং দায়ের হওয়া অসংখ্য মামলার সত্য উদঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ে নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল শহিদ সাংবাদিকদের পরিবার ও সন্তানদের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে বিস্মৃত হতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্রও মেনে নেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক ও বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য:০