৮ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (৮ আগস্ট, ২০২৬): ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে অর্জিত এই সাফল্যকে বিভাজনের হাতিয়ার নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার শক্তি হিসেবে ধারণ করতে হবে। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাবি সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত বিজয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক চেতনা বিক্রির উপকরণ হতে পারে না। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা জুলুম-নির্যাতন, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তাই চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার যাতে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমিত করার বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করেছে; বাংলাদেশও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে একই পথে এগোচ্ছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এগোতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত দণ্ডিত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিয়ে একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা পরস্পরবিরোধী অবস্থান। ভারত সরকার এ বিষয়টি অনুধাবন করে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম, শহীদ আবু সাঈদের ভাই মো. আবু হোসেন এবং শহীদ একরামুল হক সাজিদের মাতা নাজমা খাতুন লিপি। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: তথ্য অধিদপ্তর।
মন্তব্য:০