৪ জুলাই, ২০২৬
মতামত › স্বদেশ

চিত্র:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| |ক্রেডিট : ছবি: সংগৃহীত
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে জাতির সম্মিলিত অর্জন হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ এবং যথাযোগ্য সম্মান নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় যে লক্ষ্য ও আদর্শ সামনে রেখে ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড এবং অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কোনো ধরনের অবিচারের সুযোগ না থাকে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভাজন ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের কাজে সবাইকে অংশ নিতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। দেশ পুনর্গঠনের পথে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অর্জনকে দুর্বল করার যে কোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসনে সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। সেই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য:০