শিরোনাম
মাউন্ট মিঝিরগিতে বরফধস, নিহত ১১ পর্বতারোহী *** উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নীতিবদল, নিজস্ব প্রতিরক্ষায় সিউল *** ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নে চীনের নতুন প্রস্তাব *** জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় চীন-নেপালের যৌথ উদ্যোগের আহ্বান *** ‘যতক্ষণ আশার ক্ষীণ আলো থাকবে, চীন কখনও হাল ছাড়বে না’: সিচাংয়ে উদ্ধারকাজ ***




↠সিডনি-বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট :


১৬ আগস্ট, ২০২৬

স্বদেশ › নবম জাতীয় পে-স্কেল

মন্তব্য:০

News Picture

চিত্র:নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট

জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবি নিয়ে পে-স্কেলে নতুন জটিলতা, বাড়ছে বাস্তবায়ন বিলম্বের শঙ্কা

নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে এসেও আবার নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে এর বাস্তবায়ন। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রায় প্রস্তুত হলেও জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন-ভাতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশের আগে পুরো বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের অধীন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে মূল বেতনের সমান, অর্থাৎ শতভাগ ভাতা দেওয়ার দাবি ওঠার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ কারণে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন নিয়ে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে নবম পে-স্কেলের সামগ্রিক আর্থিক প্রভাব এবং সরকারি বিভিন্ন সেবার বেতন কাঠামোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও নতুন করে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সরকারি কর্মচারীর বেতন কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্যসহ একাধিক বিষয় উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন এবং ওই সার্ভিসের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বেতন কাঠামোর কোথাও বৈষম্য বা অসামঞ্জস্য থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু বেতন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে পে-স্কেল কার্যকরের সময় আরও পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। কমিটির বৈঠক শিগগিরই হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ১২ আগস্ট বৈঠক আহ্বান করা হলেও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়ায় সেটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী বৈঠকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সামনে রেখে এর গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। বিচারকদের বর্তমান বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে প্রস্তাবিত কাঠামোর সামঞ্জস্য, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন এবং সেই অর্থের সম্ভাব্য সংস্থান—এসব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। এরই মধ্যে গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি হারে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ। অর্থাৎ উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর করার কথা রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি রাখা হয়েছে। এতে পে-স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক চাপ ধাপে ধাপে মোকাবিলা করার সুযোগ তৈরি হবে। দেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। তবে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ যতই এগিয়েছে, ততই আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন খাতের বেতন-ভাতা এবং পৃথক দাবির সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার জুডিশিয়াল সার্ভিসের শতভাগ ভাতা দাবিকে কেন্দ্র করে গেজেট প্রকাশের আগে নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া আবারও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল কবে নাগাদ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।





মন্তব্য