৩ আগস্ট, ২০২৬
স্বদেশ › স্বদেশ

চিত্র:রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠান ।| |ক্রেডিট : ইন্টারনেট
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেউই দেশের মালিক নন; প্রকৃত মালিক দেশের ১৮ কোটি মানুষ। তাই ক্ষমতার আসনে বসে মালিকানার মনোভাব নয়, বরং সেবার মানসিকতা নিয়েই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক পরিবারের মধ্যে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো জনগণকে সম্মান দিয়ে একটি সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকারীদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ বাস্তবিক অর্থেই অনুভব করেন যে তারাই দেশের প্রকৃত মালিক এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবার জন্যই পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ধরনের হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও হত্যার শিকার হয়েও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। সমাজকল্যাণ ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২ জুলাই শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি নিজে, দলীয় নেতাকর্মী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন। সরকারি ত্রাণভান্ডার থেকে খাদ্যশস্য ও নগদ সহায়তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও সাইক্লোন সেন্টারের কার্যকারিতার কারণে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মীর হেলাল বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো মানবিক উদ্যোগ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে যাবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ব্যয়ের সামান্য একটি অংশও যদি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়, তাহলে দারিদ্র্য হ্রাসে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া টেকসই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য:০